📖 কুরআন তেলাওয়াতের ফজিলত
👉মুফতি মুখতার হুসাইন বাঁশগাড়ী
🌟 কুরআন তেলাওয়াতের গুরুত্ব
কুরআনুল কারীম আল্লাহর পক্ষ থেকে সর্বশেষ ওহী। এর তেলাওয়াত করা ইবাদত, এর প্রতিটি অক্ষরে রয়েছে সওয়াব।
রাসূল ﷺ বলেছেন:
> “যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব থেকে একটি অক্ষর পাঠ করে, সে এর বিনিময়ে একটি নেকী পাবে। আর প্রতিটি নেকী দশগুণ বৃদ্ধি পাবে।”
(তিরমিযী, হাদিস: ২৯১০)
---
🌟 তেলাওয়াতকারীর মর্যাদা
রাসূল ﷺ বলেছেন:
> “তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি যে কুরআন শেখে এবং অন্যকে শেখায়।”
(সহিহ বুখারী, হাদিস: ৫০২৭)
তেলাওয়াতকারীর মর্যাদা শুধু দুনিয়াতেই নয়, আখিরাতেও আল্লাহ তাঁকে উচ্চ মর্যাদা দিবেন।
---
📖 কুরআন তেলাওয়াতের নিয়ম-কানুন
1. ওযু করা – কুরআন তেলাওয়াত করার আগে ওযু করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন অবস্থায় পড়া উত্তম।
2. শুরুতে ‘আউযুবিল্লাহ…’ ও ‘বিসমিল্লাহ…’ পড়া – সূরা শুরু করার সময় অবশ্যই পড়তে হবে।
3. তাজবীদের নিয়ম মেনে পড়া – ধীরে-সুস্থে অর্থ বুঝে তেলাওয়াত করা।
4. শ্রদ্ধা ও খুশু নিয়ে পড়া – শুধু মুখে নয়, অন্তর দিয়েও অনুভব করে পড়তে হবে।
5. অর্থ নিয়ে চিন্তাভাবনা করা (তাদাব্বুর) – কুরআন শুধু পড়ার জন্য নয়, বুঝে আমল করার জন্য।
---
🌟 কুরআন তেলাওয়াতকারীর আখিরাতের ফজিলত
1. কেয়ামতের দিন সুপারিশকারী
রাসূল ﷺ বলেছেন:
> “কুরআন কিয়ামতের দিন তার তেলাওয়াতকারীর জন্য সুপারিশ করবে।”
(সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮০৪)
2. পিতামাতার জন্য সম্মান
রাসূল ﷺ বলেছেন:
> “যে ব্যক্তি কুরআন পড়ে, শিখে এবং এর উপর আমল করে; কিয়ামতের দিন তার পিতামাতাকে এমন এক মুকুট পরানো হবে যার আলো সূর্যের আলো থেকেও উজ্জ্বল হবে।”
(আবু দাউদ, হাদিস: ১৪৫৩)
3. উচ্চ মর্যাদা লাভ
কিয়ামতের দিন কুরআন তেলাওয়াতকারীকে বলা হবে:
> “তুমি পড়তে থাকো এবং ওপরে উঠতে থাকো। তুমি যেমন দুনিয়াতে ধীরে ধীরে তেলাওয়াত করতে, তেমনি পড়তে থাকো। তোমার স্থান হবে যেখানে তোমার শেষ আয়াত পড়া শেষ হবে।”
(তিরমিযী, হাদিস: ২৯১৪)
---
📖 সারসংক্ষেপ
কুরআন তেলাওয়াত প্রতিটি অক্ষরে সওয়াব আনে।
তেলাওয়াতকারীর দুনিয়াতে মর্যাদা এবং আখিরাতে জান্নাতে উচ্চ স্থান লাভ হবে
।
কুরআন কিয়ামতের দিন তেলাওয়াতকারীর জন্য সুপারিশ করবে।
তার পিতা-মাতা সম্মানিত হবেন।
.gif)
