Ad

কুরআন ও হাদীসের আলোকে বর্তমান যুগের ফেতনা (বিভ্রান্তি, পরীক্ষা বা বিপর্যয়) নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা তুলে ধরছি

Referral link

 অবশ্যই।

কুরআন ও হাদীসের আলোকে বর্তমান যুগের ফেতনা (বিভ্রান্তি, পরীক্ষা বা বিপর্যয়) নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা তুলে ধরছি


🌟 ফেতনার সংজ্ঞা


ফেতনা শব্দের অর্থ: পরীক্ষা, বিভ্রান্তি, গুমরাহী, দুর্যোগ, দাঙ্গা, দ্বীনের ওপর অটল থাকা কঠিন করে তোলা ইত্যাদি।

ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে ফেতনা হলো এমন অবস্থা, যা মানুষকে সত্যের পথ থেকে বিচ্যুত করে অথবা দ্বীনের চর্চা কঠিন করে তোলে।

📖 কুরআনের আলোকে


🔹 আল্লাহ বলেন:

وَاتَّقُوا فِتْنَةً لَا تُصِيبَنَّ ٱلَّذِينَ ظَلَمُوا۟ مِنكُمْ خَآصَّةً ۖ وَٱعْلَمُوٓا۟ أَنَّ ٱللَّهَ شَدِيدُ ٱلْعِقَابِ

“তোমরা এমন ফেতনা থেকে সতর্ক হও, যা শুধু সীমালঙ্ঘনকারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং সকলকে স্পর্শ করবে।"

📚 (সূরা আনফাল ৮:২৫)



---


🌸 হাদীসের আলোকে


🔹 রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেছেন:

يُوشِكُ أَن تَدَاعَىٰ عَلَيْكُمُ ٱلْأُمَمُ كَمَا تَدَاعَى ٱلْأَكَلَةُ إِلَىٰ قَصْعَتِهَا

“এক সময় আসবে যখন বিভিন্ন জাতি তোমাদের ওপর হামলা চালাবে যেমন আহারীরা তাদের থালার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।”

📚 (আবু দাউদ, হাদীস 4297)


🔹 আরেক হাদীসে তিনি (ﷺ) বলেন:

بَادِرُواْ بِٱلْأَعْمَالِ فِتَنًۭا كَقِطَعِ ٱلَّيْلِ ٱلْمُظْلِمِ

“সৎ আমলের মাধ্যমে (আগাম) ফেতনার যুগের পূর্বে প্রস্তুত হও, যে যুগ হবে ঘোর অন্ধকার রাতের মতো।”

📚 (সহীহ মুসলিম)



---


🕋 বর্তমান যুগের ফেতনা


✅ আকীদার ফেতনা:

ভ্রান্ত মতবাদ, নাস্তিক্যবাদ, কুফরী দর্শন, ভ্রান্ত ধর্মীয় চিন্তাধারা ছড়িয়ে পড়া।


✅ নৈতিকতার ফেতনা:

ব্যাভিচার, অশ্লীলতা, পর্নোগ্রাফি, লজ্জাহীনতা, অশ্লীল মিডিয়া।


✅ ধর্মের জ্ঞানের অভাব:

দ্বীনের সঠিক জ্ঞান না থাকা, অজ্ঞতা, নিজস্ব মতের ভিত্তিতে দ্বীনের ব্যাখ্যা করা।


✅ সম্পদ ও ক্ষমতার ফেতনা:

অত্যাধিক বিলাসিতা, হারাম উপার্জন, ক্ষমতার লোভ।


✅ বিভাজনের ফেতনা:

উম্মাহর মধ্যে বিভক্তি, দলাদলি, একে অপরকে কাফির বলা।


✅ ইসলামের বিরুদ্ধে প্রপাগান্ডার ফেতনা:

ইসলামকে সন্ত্রাসী ধর্ম বলে অপপ্রচার।


✅ টেকনোলজির অপব্যবহার:

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময় নষ্ট, গীবত, অপবাদ, বিভ্রান্তি ছড়ানো।


Referral link

💡 ফেতনার সময় করণীয়


🔸 ইখলাস (নিখাদ্দ উদ্দেশ্য) সহকারে আল্লাহর ইবাদত করা।

🔸 সঠিক ইসলামী জ্ঞান অর্জন করা।

🔸 সুন্নাহর অনুসরণ করা।

🔸 নেক সঙ্গী ও আলেমদের সাহচর্যে থাকা।

🔸 দো‘আ ও ইস্তিগফার করা।

🔸 ফেতনা থেকে দূরে থাকা, যুক্তিতে না জড়ানো।

🔸 সামাজিক দায়িত্ব পালন করা।



---


🔑 উপসংহার


বর্তমান যুগে নানা ধরণের ফেতনা আমাদের চারপাশে ঘুরছে। কুরআন ও হাদীস আমাদের সতর্ক করেছে এ থেকে বাঁচার উপায়ও দেখিয়েছে। আমাদের প্রত্যেকের কর্তব্য হলো— সঠিক পথে অটল থাকা এবং অন্যদেরও এই পথে আহ্বান করা।



---


আপনি চাইলে আমি প্রতিটি ফেতনা আরও বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করতে পারি।

অথবা আপনি জানতে পারেন: ফেতনা

 থেকে রক্ষা পাওয়ার আমল, দো‘আ, রাসূল (ﷺ)-এর আরও নির্দেশনা।

আপনি কি বিস্তারিত চান? 🌸✨


আলহামদুলিল্লাহ, তাহলে এবার একটু বিস্তারিত দিচ্ছি


🌿 ১️⃣ আকীদার (বিশ্বাসের) ফেতনা


আজকের যুগে বিভিন্ন ভ্রান্ত মতবাদ, যেমন:

🔸 নাস্তিকতা,

🔸 কুফরী দর্শন,

🔸 ইসলাম-বিরোধী দর্শন (সেক্যুলারিজম, লিবারেলিজম),

🔸 কুরআন ও সুন্নাহকে নিজের খেয়ালখুশিমত ব্যাখ্যা করা

🔸 আহলে সুন্নাতের নাম করে গোমরাহি ছড়ানো

এসব মানুষের ঈমানকে দুর্বল করছে।


রাসূল (ﷺ) বলেছেন:

“আমার উম্মতের মাঝে তেইশটি দল হবে, একমাত্র এক দলই মুক্তিপ্রাপ্ত হবে।”

📚 (তিরমিজি)



---


🌿 ২️⃣ নৈতিকতার ফেতনা


🔸 অশ্লীলতা

🔸 অবাধ মেলামেশা

🔸 পর্নোগ্রাফি

🔸 টিভি-সিনেমার ফিতনা

🔸 সামাজিক মাধ্যমে অনৈতিক কন্টেন্ট ছড়িয়ে পড়া

এগুলো তরুণ সমাজকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।


কুরআনে আল্লাহ বলেন:

وَلَا تَقْرَبُوا الزِّنَا ۖ إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاءَ سَبِيلًا

“ব্যভিচারের কাছেও যেও না। এটি এক ঘৃণিত কাজ এবং মন্দ পথ।”

📚 (সূরা ইসরা: ৩২)


Referral link

🌿 ৩️⃣ সম্পদের ফেতনা


🔸 সুদ

🔸 ঘুষ

🔸 হারাম উপার্জন

🔸 লোভ

🔸 বিলাসিতা

🔸 যাকাত-সদকা না দেয়া


রাসূল (ﷺ) বলেন:

لكل أمة فتنة وفتنة أمتي المال

“প্রত্যেক জাতির একটি বিশেষ ফেতনা আছে। আমার উম্মতের ফেতনা হচ্ছে সম্পদ।”

📚 (তিরমিজি)



---


🌿 ৪️⃣ বিভক্তি ও দলাদলি


🔸 একে অপরকে কুফরি ফতোয়া দেয়া

🔸 দল ভিত্তিক বিদ্বেষ

🔸 মুসলিমদের ঐক্য ভেঙে যাওয়া


আল্লাহ বলেন:

وَاعْتَصِمُواْ بِحَبْلِ ٱللَّهِ جَمِيعًۭا وَلَا تَفَرَّقُواْ

“তোমরা সবাই মিলে আল্লাহর রজ্জুকে (ধর্ম) দৃঢ়ভাবে ধারণ করো এবং পরস্পরে বিভক্ত হয়ো না।”

📚 (সূরা আলে ইমরান: ১০৩)



---


🌿 ৫️⃣ টেকনোলজির ফেতনা


🔸 মোবাইল ফোনে সময়ের অপচয়

🔸 সোশ্যাল মিডিয়ায় গীবত-অপবাদ

🔸 ইসলামবিরোধী প্রচার ছড়ানো

🔸 মানুষকে দ্বীন থেকে গাফেল করা


রাসূল (ﷺ) বলেছেন:

من حسن إسلام المرء تركه ما لا يعنيه

“একজন মানুষের উত্তম ইসলামের নিদর্শন হলো, যে বিষয় তার জন্য প্রয়োজন নয়, তা ছেড়ে দেয়।”

📚 (তিরমিজি)



---


✨ ফেতনার সময় করণীয়


✅ ১. দ্বীনের সঠিক জ্ঞান অর্জন

✅ ২. কুরআন ও সুন্নাহ মেনে চলা

✅ ৩. নেক আমলে মনোযোগী হওয়া

✅ ৪. সৎ ও নেক সঙ্গীদের সাথে থাকা

✅ ৫. ফেতনা থেকে দূরে থাকা, তর্ক এড়ানো

✅ ৬. তওবা-ইস্তেগফার করা

✅ ৭. ফেতনা থেকে রক্ষা পাওয়ার দো‘আ পড়া:


দো‘আ:

اللَّهُمَّ أَجِرْنَا مِنَ الْفِتَنِ، مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ

“হে আল্লাহ! প্রকাশ্য ও গোপন সকল ফেতনা থেকে আমাদের রক্ষা করুন।”



---


🌸 উপসংহার


বর্তমান যুগ এক ‘ফিতনার যুগ’।

ইসলামী স্কলাররা বলেন— এই যুগে দ্বীন পালন করা হবে আগুনের উপর হাত রাখার মত কঠিন।

তাই নিজেদের ঈমান মজবুত করা, কুরআন-সুন্নাহ মেনে চলা, আল্লাহর সাহায্য কামনা করা আমাদের একান্ত প্রয়োজন।


Referral link

---


আপনি চাইলে আরও জানতে পারেন:

✅ ফেতনা থেকে বাঁচার নির্দিষ্ট আমল

✅ কোন দো‘আ গুলো বেশি পড়া উচিত

✅ রাসূল (ﷺ)-এর সময়কার কোনো ফেতনার ঘটনা


✅ বর্তমান মিডিয়ার ফেতনার বিস্তারিত বিশ্লেষণ


আপনি কোনটা জানতে চান? 🌼

(জানালে আরও লিখে দিচ্ছি ইনশাআল্লাহ) 🌸🌸🌸


👉❤️লেখক মুফতি মুখতার হুসাইন বাঁশগাড়ী 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.